https://www.coxsbazarbanglanews.com

https://www.coxsbazarbanglanews.com

আগামী ৩০শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার ২ সিটি নির্বাচন !

Recent Tube

আগামী ৩০শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার ২ সিটি নির্বাচন !



সিবিবিএন ডেক্স : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ি, আগামী ৩০ জানুয়ারি দুই সিটির ভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষদিন ৯ জানুয়ারি।

মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে এবং কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। দুই সিটির বর্তমান মেয়ররা ভোটে অংশ নিতে চাইলে তাদের পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। তবে কাউন্সিলররা নিজ পদে থেকেই ভোটে অংশ নিতে পারবেন। দুই সিটির সবকেন্দ্র ইভিএমের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হওয়ায়, এবারই প্রথম রাজধানীর অর্ধকোটিরও বেশী ভোটার পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দেবেন। আচরণবিধি অনুযায়ী, সিটি ভোটের প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ সরকারি সুবিধাভোগীরা অংশ নিতে পারবেন না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ২২ ডিসেম্বর রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের ৫৭তম সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই সিটির তফসিল ঘোষণা করেন। সিইসি জানান, দুই সিটির সবগুলো ভোটকেন্দ্রেই সকাল ৮ টা থেকে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) দুই ভাগে ভাগ হওয়ার পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্দলীয় ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হন। এদিকে আনিসুল হকের মৃত্যুর পর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে উপনির্বাচনে এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। উপনির্বাচনের আগে আইন সংশোধন হওয়ায় সেই নির্বাচনটি হয় দলীয় প্রতীকে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দুই সিটির নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রথম সভা হয় ১৭ মে। এ হিসাবে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে (উপনির্বাচনে মেয়াদ বাড়বে না), আর দক্ষিণে একই বছরের ১৬ মে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি, এরপর এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় জানুয়ারিতেই দুই সিটিতে ভোটের আয়োজন করছে ইসি।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ি, তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আগাম প্রচারণামূলক সব পোস্টার-বিলবোর্ড নিজ দায়িত্বে নামিয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি। এ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসির দুই যুগ্ম সচিবকে। উত্তরে দায়িত্ব পালন করবেন আবুল কাশেম, দক্ষিণের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল বাতেন। ঢাকা উত্তর সিটিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হবে বনানী কমিউনিটি সেন্টার; দক্ষিণ সিটিতে মতিঝিল কমিউনিটি সেন্টার (সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়েই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোট করা হবে। সম্প্রতি দুই সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের ৩৬ জন কাউন্সিলর এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন করে মোট ১২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর; সবাই (৪৮ জন কাউন্সিলর) জানুয়ারিতে নির্বাচন না করতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। তারা হুমকি দিয়েছিলেন যে, তাদের আসনে নির্বাচন করলে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

এ বিষয়ে ইসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, তাদের দাবি, নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য এক বছরও সময় পাননি তারা। অথচ একজন কাউন্সিলর ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সে ক্ষেত্রে দুই সিটির এসব সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে এখন ভোট না দিয়ে তাদের পর্যাপ্ত সময় কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। কমিশন মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভোটগ্রহণে কোনও বাধার সৃষ্টি হবে না। কারণ, কোনও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মেয়াদের ওপর কমিশনের মেয়াদ নির্ভর করে না। পরিষদের মেয়াদকেই গণনায় ধরা হয়। তাই, ইসির নির্ধারিত (৩০ জানুয়ারি) সময়ে ওইসব ওয়ার্ডেও নির্বাচন হবে।

ডিএনসিসিতে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৩৪৯টি এবং ভোটকক্ষ সাত হাজার ৫১৬টি।

ডিএসসিসিতে ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র এক হাজার ১২৪ এবং ভোটকক্ষ পাঁচ হাজার ৯৯৮টি।

জামানত ও ভোটার তালিকার সিডি: ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী দক্ষিণের প্রত্যেক মেয়র প্রার্থীকে ১ লাখ টাকা জামানত রাখতে হবে। ২০ লাখের বেশি ভোটার হলে ১ লাখ টাকার জামানতের বিধান রয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের জামানত ভোটার অনুপাতে ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকার জামানতের বিধান রয়েছে। এবার প্রার্থীদের ভোটার তালিকার সিডি কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডের সিডির জন্য প্রার্থীদের দিতে হবে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলরদের তিনটি ওয়ার্ডের সিডি কিনতে হবে ১৫০০ টাকা দিয়ে।

স্বপদে থেকে ভোট নয়: দুই সিটির বর্তমান মেয়ররা ভোটে অংশ নিতে চাইলে তাদের পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আদালতের রায়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটি লাভজনক বিবেচিত হওয়ায় প্রার্থী হতে পদ ছাড়তে হচ্ছে জনপ্রতিনিধিকে। সিটি করপোরেশন আইনে বলা হয়েছে, মেয়র পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে এ ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে হলে তাকে পদত্যাগ করে প্রার্থী হতে হবে। কাউন্সিলর পদধারীরা লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত না হওয়ায় তারা পদত্যাগ না করে প্রার্থী হতে বাধা নেই। তবে প্যানেল মেয়র প্রার্থী হতে চাইলে তাকেও ছাড়তে হবে কাউন্সিলরের পদ।

এর আগে জানুয়ারির মাঝামাঝি ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের কথা থাকলেও তা থেকে পিছিয়ে আসে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়ার জন্য ভোটের সময় কিছুটা পেছানো হয়েছে। কারণ ইভিএম পরিচালনায় সহায়তা করবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত টেকনিক্যাল টিম।


 

Post a Comment

0 Comments