https://www.coxsbazarbanglanews.com

https://www.coxsbazarbanglanews.com

নিজের কর্মদক্ষাতায় আজ বিশ্ব পরিচিত মুখ রিমা সুলতানা রিমা

Recent Tube

নিজের কর্মদক্ষাতায় আজ বিশ্ব পরিচিত মুখ রিমা সুলতানা রিমা

সুত্র: বিবিসি ১০০ নারীর তালিকায় রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু। সেই
বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকা ২০২০ এ স্থান পেয়েছেন।


কায়ছার :
কক্সবাজারের রামু উপজেলা রাজারকুল পশ্চিম সিকদার পাড়ার পিতা আব্দুর রহিম মাতা খালেদা বেগমের মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু। দীর্ঘ সময় রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা, রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও শিশুদের শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, বয়সভিত্তিক স্বাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা, রেডিও ব্রডকাস্ট ও থিয়েটার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও নারীর অগ্রগতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে করছেন রিমা সুলতানা রিমু। সেই কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি ফলাফলের অপেক্ষায়। পরিবারের ভাই বোনের মধ্যে রিমা সুলতানা রিমু ২য়। সেই ২০১৯ সালে রিমু জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালে জাতি সংঘের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হলে, একই সময় রিমু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরেরও সুযোগ পান। রিমু কক্সবাজার ভিত্তিক ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিস এর একজন অন্যতম সদস্য। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ উইমেন পিসবিল্ডার্স এর সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংঘাতসঙ্কুল দেশ থেকে আসা কিশোরীদের কল্যাণে কাজ করছেন রিমু। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে নারীদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত হয়ে পাকিস্তানী অভিনেত্রী মাহিরা খান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সানিয়া নিশতার, ভারতের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশ ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বানুসহ আরও অনেকে সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের সাথে এ তালিকাতেই স্থান পায় বাংলাদেশের ২জন নারী। এরমধ্যে কক্সবাজার রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু।

তথ্য সুত্রে জানা গেছে, রিমা সুলতানা রিমু বছর পূর্বে বেসরকারি সংস্থা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এর শিক্ষাবান্ধব গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেকে গড়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় দক্ষ করার পাশাপাশি এ সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক সেবা ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন । বর্তমানে রিমু ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এর নির্বাহী সদস্য, গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারের সহ অফিস সম্পাদক এবং কিডস ক্লাবের কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সেই লন্ডন ভিত্তিক সংস্থা বিটিএম এর ফরেন এ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত। বাংলাদেশ জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিউলী শর্মা জানিয়েছেন-রিমুর এ সফলতায় পুরো জাগো নারী পরিবারের উজ্জ্বল নক্ষত্র । তিনি আরও বলেন, এ সংস্থার আওতায় জাতিসংঘের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচনের জন্য রামু ও উখিয়া উপজেলার ৩০ জন সেচ্ছাসেবী কিশোরী প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এরমধ্যে রিমা সুলতানা রিমু সর্বাধিক কর্মদক্ষতা, মেধার স্বাক্ষর রেখে জাতিসংঘের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়। সেই রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের শিক্ষার প্রসার, নারী অধিকার বাস্তবায়ন, সমাজ উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কর্মকান্ডে প্রশংসনীয় অবদান রেখে আসছে । যার ফলশ্রুতিতে আজ বিশ্ববাসী হতবাক।

ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বিটিএম এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সাহেদুল ইসলাম রায়হান জানান, ২০১৮ সাল থেকে রিমা সুলতানা রিমু ইউসা ও গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারের কাজ করছে। তাঁর মেধা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা দেখে সংগঠনের পক্ষ থেকে উৎসাহ পেয়ে তিনি আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। এ-র পরে গ্লোবাল ইংলিশ লার্নিং সেন্টার ও জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে রিমু জাতি সংঘের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি রিমু মানবিক কর্মকান্ডে নিজেকে এভাবে বিকশিত করা নজিরবিহীন। এ এরকম প্রতিভাবান কিশোরীর সাফল্য এবং তাঁর সাথে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত । ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এবং গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান-রিমু সমাজের নারী ও শিশু বিষয়কে কেন্দ্র করে সর্বদা সৃজনশীল চিন্তা চেতনাও সমাজ পরিবর্তনের রুপকার। রিমু দে-শ ও সমাজকে নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।সেই বিবিসি বাংলা ১০০ নারীর তালিকায় রিমুর নাম দেখে জিইএলসি পুরো পরিবার খুশি।

বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পাওয়া রিমা সুলতানা রিমু নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এ অবদান ভবিষ্যতে সৃজনশীল ও মানবিক কাজ করতে দ্বিগুন উৎসাহ আনবে। মানুষের কল্যাণে আমাকে আরও ভুমিকা রাখতে হবে। সৎ কাজে যুব সমাজ যেন পিছ পা না হয়। প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সব সময় নিজেদের আপপ্রাণ প্রচেষ্টা থাকতে হবে।বিবিসি বলছে এবার একশ নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিতে হাইলাইট করেছে তা হলো যারা পরিবর্তন আনতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং করোনার মহামারিতে এই কঠিন সময়েও এদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। উক্ত তালিকায় আরও আছেন ফিনল্যান্ডের কোয়ালিশন সরকার যার প্রতিটি সদস্য নারী তার প্রধান স্যান্না ম্যারিন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস টিকা গবেষণা দলের প্রধান সারাহ গিলবার্ট।

Post a Comment

0 Comments