https://www.coxsbazarbanglanews.com

https://www.coxsbazarbanglanews.com

কক্সবাজারে পুলিশের নাম ভাংগিয়ে দালাল নুরু কোটি টাকার ইয়াবা লুট

Recent Tube

কক্সবাজারে পুলিশের নাম ভাংগিয়ে দালাল নুরু কোটি টাকার ইয়াবা লুট


ক্রাইম রিপোর্ট: (১ম পর্ব)

কক্সবাজারে শহরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম প্রকাশ থানার সোর্স নুরু কক্সবাজার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বার্মাইয়া ভেইটখাইয়া নামে পরিচিত প্রয়াত এক ব্যক্তির ছেলে। নুরু পুরনো রোহিঙ্গা ও একাধিক মামলার আসামি বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

(কক্সবাজার বাসটার্মিনালের ইউনিক কাউন্টারের ইয়াবার একাংশে ছবি)    


এর আগে গত শনিবার (২১ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ইউনিক বাস কাউন্টারে এই ইয়াবা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। রহস্যজনক কারণে ইউনিক পরিবহনের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদক অনুসন্ধানে নামলে ঘটনায় জড়িতরা গত রোববার গভীর রাতে কক্সবাজার সদর থানায় হাজির হয়ে মাত্র এক হাজার ৭৯০ ইয়াবা ‘জমা’ দেয়। বাদ বাকি ইয়াবাগুলো সুকৌশলে বিক্রি করে।


(কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে   ইউনিক  কাউন্টারে ইয়াবার কার্টুনের ছবি এ কার্টুনে ইয়াবগুলো নুরু লুট করেন)       

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শনিবার (২১ নভেম্বর) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ইউনিক কাউন্টার থেকে রাত সাড়ে ১১টার ঢাকাগামী শেষ বাসটির টিকেট সংগ্রহ করে ইয়াবা কারবারিদের একটি চক্র। পরে ইয়াবা পাচারকারী চক্রের একজন ইয়াবা ভর্তি কার্টন নিয়ে বাস উঠার জন্য কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন।

ওই সময় অপর আরেকটি স্থানীয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের কয়েকজন ইয়াবার কার্টনটি ছিনতাইয়ের জন্য কাউন্টারে হানা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইউনিক কাউন্টারের ম্যানেজারের কাছে ইয়াবা ভর্তি কার্টনটি জমা রেখে সেখান থেকে সটকে পড়েন ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কাউন্টারের ম্যানেজার রাকিব বিষয়টি কক্সবাজারে ইউনিক পরিবহনের জিএম আবদুর রহিমকে অবহিত করেন। পরে আবদুর রহিম থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নুরুকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেন ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোর্স হিসেবে পরিচিত নুরুকে দেখে সাদা পোশাকে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকতে পারে ভেবে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ইয়াবা পাচারকারী ও ছিনতাইয়ের জন্য হানা দেয়া চক্রের সদস্যরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যমতে, নুরু বাস কাউন্টারে উপস্থিত হয়ে প্রথমে ইয়াবার কার্টনটি নিজের আয়ত্তে নেন। এরপর মোবাইল কানে দিয়ে বড় গলায় ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে র‍্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার অভিনয় করেন নুরু। তাৎক্ষণিক ইয়াবা ভর্তি কার্টনটি র‍্যাবের কক্সবাজার কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তড়িৎ গতিতে চলে যান। ওইদিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন নুরু যোগাযোগ করেন জিএম রহিমের আবাসস্হলে ।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কার্টনটিতে কমপক্ষে ১০ কার্ড অর্থাৎ এক লাখ পিস বা তার বেশি ইয়াবা ছিল।

ঘটনার বিষয়ে ইউনিক পরিবহনের জিএম আবদুর রহিম বলেন, ‘বাস টার্মিনালের কাউন্টারের ম্যানেজার রাকিব ইয়াবা ভর্তি কার্টনটির বিষয়টি আমাকে অবগত করেন। কিন্তু পুলিশের কারো সাথে পরিচয় না থাকায় আমি ফোনে যোগাযোগ করে পুলিশের সোর্স নুরুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই।’

‘পরে ইয়াবা ভর্তি কার্টনটি উদ্ধারের পর র‍্যাবকে দেয়ার কথা বলে নুরু তার হেফাজতে নেয়। ওইদিন রাত দেড়টার দিকে ইয়াবা র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে, র‍্যাব পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির সাথে আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দেন নুরু।’

আবদুর রহিম বলেন, ‘কিন্তু পরদিন রাতে অর্থাৎ রোববার (২২ নভেম্বর) গভীর রাতে নুরু আমাকে ফোনে বলেন, ইয়াবা অল্প হওয়ায় র‍্যাব তা গ্রহণ না করে পুলিশকে দিতে বলেছে। পরে আমিসহ কক্সবাজার থানায় উপস্থিত হয়ে আনুমানিক চার হাজার পিস ইয়াবা হস্তান্তর করি। সরাসরি পুলিশকে ফোন না করায় ভুল হয়েছে। ইয়াবা লুট করার প্রশ্নই আসে না’। কিন্তু বাদবাকি ইয়াবাগুলো নুরুল ইসলাম নুরু কি করেছে আমি জানি না। সেই প্রায় সময় পুলিশের পরিচয় দিত এজন্য নুরুকে অবিহীত করি। তিনি আরও বলেন, নুরু এত বড় কাজ করবে আমরা ধামাচাপা দেব প্রশ্ন আসে না। আমি সঠিক তদন্ত পূর্বক নুরু বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি। পাশাপাশি দালাল নুরু আমাকে জড়ানো বিষয়টি প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করি।

অন্যদিকে র‍্যাবের নাম ভাঙিয়ে ইয়াবা উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু; বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধার করতে গিয়ে আমি ভয়ে র‍্যাবের নাম ব্যবহার করেছি। কারণ সবাই আমাকে ইয়াবার ভাগ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিল।’

নুরু দাবি করেন, সেখানে ১ লাখ ইয়াবা ছিল না। কার্টনের ভিতরে দুটি ইট, কিছু কাগজ ও একটি লুঙ্গি ছিল। তাই ইয়াবা বেশি মনে হয়েছে।

ওইদিন সাথে সাথে পুলিশকে কেন খবর দেয়া হয়নি এবং একদিন পর কেন ইয়াবাগুলো থানায় জমা করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে নুরু বলেন, ‘ইয়াবার মালিককে খোঁজার জন্য তা জমা করিনি। পরে জমা করে দিয়েছি।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে  বলেন, ‘গত রোববার রাতে সদর থানার ওসি স্যারের উপস্থিতিতে নুরু ও আবদুর রহিম একটি কার্টন নিয়ে থানায় হাজির হয়। সেখানে গণনা করে এক হাজার ৭৯০টি ইয়াবা পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘র‍্যাবের নাম ব্যবহার, ইয়াবা আত্মসাৎ ও একদিন পরে ইয়াবা জমা দেয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না।’

আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়া পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি ইয়াবা উদ্ধার করে থানায় জমা দেয়ার আইনগত এখতিয়ার রাখেন কিনা জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘নুরু থানার দালাল বা সোর্স কিনা তা আমার জানা নেই। পরিত্যক্ত অবস্থায় ইয়াবা পেয়ে তা স্বপ্রণোদিতভাবে থানায় জমা দেয়া হয়েছে ভেবে তা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন বিস্তারিত ঘটনা আপনার কাছে শুনেছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে। তবে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়ার পরও ওসি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতিবেদক এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে ইয়াবা জমা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি কতটুকু সত্যি আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি আপনার কাছে ঘটনাটি প্রথম শুনলাম। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঘটনাটি র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের উইং কমান্ডার আজিম আহমেদকে জানানো হলে, তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে নুরুর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি নানা অপরাধে জড়িত। কক্সবাজার পৌসরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহাব উদ্দীন সিকদার বলেন, নুরু থানার দালাল হিসেবে পরিচিত। সে এলাকায় ইয়াবা কারবার ও অপহরণে যুক্ত। ছিনতাইকারী চক্রের গডফাদার হিসেবেও তাকে আমরা জানি। পৌরসভার ৫টি পয়েন্টে নুরুর অধীনে ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা সক্রিয়।

তিনি আরও বলেন,নুরু কিছুদিন আগেও একজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। রোহিঙ্গা হয়েও থানা পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে নুরু নানা অপকর্ম করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও আছে।

কক্সবাজার শহরের অপকর্মের মূলহোতা নুরুল ইসলাম নুরু। তাহার গঠিত টোকা বাহিনী, চিনতাইকারী বাহিনী, মল্লম বাহিনী, হিরা মুক্তা বিক্রি বাহিনী, নকল স্বর্ণ বিক্রি বাহিনী, এদের তান্ডবে বর্তমান কক্সবাজার শহর অতিষ্ট এবং নিঃস্ব হয়ে ফিরছে শহরে আগত বিভিন্ন জেলার পর্যটক ও স্বয়ং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দারা।

তাই নুরুল ইসলাম নুরু প্রকাশ বার্মাইয়া নুরু কবল থেকে কক্সবাজার শহরকে মুক্ত করা অতিব জরুরি মনে করেন কক্সবাজার শান্তিপ্রিয় জনতা।

অন্যথায় কক্সবাজার শহরের নিরহ যুবক জড়িয়ে পড়বে মরণনেশা ইয়াবা ব্যবসা, বেড়ে যাবে চিনতাইকারী, খুন হবে প্রতিনিয়ত চিনতাইকারী হাতে, ঝরে যাবে নিষ্পাপ প্রাণ, সঠিক তদন্ত করলে চিনতাইকারীর হাতে নিহত যুবকের খুনী আসামির সখ্যতা মিলবে।

(চোখ রাখুন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ঢাকা)

Post a Comment

0 Comments